রাজ্যে সক্রিয় বর্ষা: দক্ষিণবঙ্গে প্রবল বৃষ্টি, উত্তরবঙ্গে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস; জেনে নিন কোন জেলায় কেমন থাকবে আবহাওয়া
কলকাতা, ১৭ জুন, ২০২৫: অবশেষে রাজ্যজুড়ে সক্রিয় হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হলেও, আজ থেকে তা আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আজ সকাল থেকেই ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, যা বহু প্রতীক্ষিত স্বস্তি এনে দিয়েছে রাজ্যবাসীর জন্য। আগামী কয়েকদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার চিত্র:
আজ সকাল থেকেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই বর্ধমান এবং নদিয়া জেলায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় ১০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের ফলে কিছু নিচু এলাকা জলমগ্ন হলেও, আপাতত তা গুরুতর আকার ধারণ করেনি। তবে, নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার প্রবণতা থাকায় পুরসভাগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া পূর্বাভাস:
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও মৌসুমী বায়ু জোরদার প্রভাব ফেলেছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে আগামী কয়েকদিনে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই জেলাগুলিতে আগামী ৭২ ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে, যা ভূমিধস এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ে পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
তাপমাত্রার পরিবর্তন ও স্বস্তি:
বর্ষার আগমনে রাজ্যজুড়ে তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই নেমেছে, যা তীব্র গরম থেকে মানুষকে স্বস্তি দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের অস্বস্তিকর গরমের পর এই বৃষ্টি এক নতুন সতেজতা এনেছে। দিনের বেলার তাপমাত্রা ৩০-৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাতের তাপমাত্রাও কমবে, ফলে আবহাওয়া আরামদায়ক হবে।
কৃষি ও জনজীবনে প্রভাব:
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বৃষ্টি কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে। বিশেষত ধান চাষের জন্য পর্যাপ্ত জলের যোগান পাওয়া যাবে। তবে, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফসলের ক্ষতির কারণ হতে পারে, তাই কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া অনুকূল থাকার সম্ভাবনা থাকায় স্বাভাবিক জনজীবন বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও ভারী বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর নিয়মিত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে নতুন পূর্বাভাস জারি করবে বলে জানিয়েছে। নাগরিকদেরও আবহাওয়ার খবর সম্পর্কে সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন