পঁচিশে বৈশাখ আসছে, আর রবির কর যেন আরও কড়কড়ে হয়ে উঠেছে। গরমের তীব্রতা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে, আর সবাই যেন জল এবং বৃষ্টির জন্য আকুল। ফেসবুকে কিছু লিখতে গেলেও মনে হয়, সবাই আবার গাছ লাগানোর কথা বলবে। এভাবে গরমের মধ্যে আটকে থাকতে থাকতে মনে হচ্ছিল, পালানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
আপনারা হয়তো বলবেন, আমি এসকেপিস্ট। কিন্তু কি করব? পালানোই তো একমাত্র উপায়। বৃহত্তর স্বার্থে অনেকেই পালায়—নীরব মোদি, বিজয় মালিয়া, শেখ সাজাহান—সবাই। কিন্তু পালাবার পথ কোথায়? কিছুটা ঠান্ডা হতে উত্তরে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম, মানে উত্তরবঙ্গের দিকে।
দার্জিলিং এবং কালিম্পঙের আশেপাশে পালানোর পরিকল্পনা করলাম। সেখানে আমার পরিচিত কিছু ননপপুলার হোমস্টে আছে, যেখানে সাধারণত কেউ যায় না। আমি ইতিহাস-ভূগোল নিয়ে ঘুরতে আর ভালো লাগি না; বরং যেখানে চেকলিস্ট নেই, সেখানে ঘাপটি মেরে থাকতেই ভালো লাগে।
এবার আমি খারকাগাঁও পালিয়ে এসেছিলাম। কালিম্পঙের কাছে ছোট্ট একটি গ্রাম। রাতারাতি পালানোর পরিকল্পনা ছিল, তাই ট্রেনে স্থান পেলাম না। আইশিয়ানার মাল্টি এক্সেল ভলভোতে ঠ্যাং ছড়িয়ে বসে গেলাম। বাসের এসি থেকে বাইরে বের হলেই লু চুমু দিয়ে যাচ্ছিল।
আসলে, ঘর থেকে বেরোনোর পর কি কি ঘটল, সেটাই বলি। শহরের মানুষদের মতো আমাদের বেড়ানো শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। স্নান-টান সেরে, ঝোল-ভাত-আমের টক দিয়ে ভাত খেয়ে, ব্যাগ পত্তর নিয়ে দুপুর বেলা রওনা দিলাম। কলকাতা ঢুকতেই মনে হলো, সামনের দিনগুলোতে ভালো খাওয়া হবে না।
বাসে ওঠার আগে পার্ক সার্কাসের কাছে দাঁড়িয়ে গেলাম। কিছু মাটন বিরিয়ানি এবং মাটন মালাই কাবাব খেতে হলো। আইশিয়ানার বাস ঠিক সাড়ে ছটায় ছাড়ল এবং প্রথম দাঁড়াল কৃষ্ণনগরের পান্থতীর্থে। রাত প্রায় দশটা। সেখানে চিকেন-ট্যাকো এবং চিজ কেক খেয়ে ভালো ছেলে হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে বাস টেনজিং নোরগে নামিয়ে দিল। শিলিগুড়ির আবহাওয়া মোটেও পাহাড়সুলভ নয়। গাড়ি আসবে সাতটায় বলে জানানো ছিল। এক ঘণ্টা শিলিগুড়ি জংশনের এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জে কাটিয়ে দিলাম।
সরোজ বাবু গাড়ি নিয়ে হাজির হলেন সময় মতন। গাড়িতে উঠতেই পাহাড়ের গন্ধ নাকে আসে। “অভিনয়ে” এসে গাড়ি থামলো এবং ব্রেকফাস্টে মোমো দিয়েই শুভ মহরৎ করলাম।
এভাবেই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে পাহাড়ের কোলে নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে শুরু করলাম। জীবনের এই মুহূর্তগুলোই তো আমাদেরকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়!
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন