বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার ঘটনায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রতি, বিভিন্ন রাজ্যের হাসপাতাল ও হোটেলে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার খবর এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে, চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই) সরকারকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে প্রস্তুত হয়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিটিআই-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ হিসেবে দিল্লির অটো খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ীরা এক মাসের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, "এখন সময় এসেছে বাংলাদেশের হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর।"
ভারত থেকে প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার অটো-মোটর যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে রফতানি হয়, যার মধ্যে ৯৫ শতাংশই ভারতীয় পণ্য। ব্রিজেশ গয়াল নিজে কাশ্মীরি গেটে অটো খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যবসায়ী হিসেবে জানান, "২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে আমাদের ব্যবসা ভালো হয়েছে।"
কাশ্মীরি গেট, যা এশিয়ার বৃহত্তম অটো খুচরা যন্ত্রাংশ পাইকারি বাজার, সেখানে ২০ হাজার দোকানদার বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতির প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অটোমোটিভ পার্টস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (এপিএমএ)-এর সভাপতি বিনয় নারাং বলেন, "আমরা বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে চাই।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "কিছু সময়ের জন্য ব্যবসায় লাভ না হলেও আমরা প্রস্তুত। এক মাসের বিরতির পর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ফের ব্যবসা শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।" মারুতি, হুন্ডাই, হন্ডা, টয়োটা, টাটা, শেভ্রোলেট এবং ভক্সওয়াগেনের মতো কোম্পানির গাড়ির যন্ত্রাংশ কাশ্মীরি গেট থেকে বিপুল পরিমাণে বাংলাদেশে রফতানি হয়।
এখন দেখার বিষয়, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ সরকারের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে এবং দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন